এবারের জলবায়ু সম্মেলনে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে বন ধ্বংসের মাত্রা শুন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিশ্ব নেতারা। মঙ্গলবার কপ-টোয়েন্টি সিক্স সম্মেলনে অন্তত ১০০ দেশের নেতারা বন উজাড় বন্ধের চুক্তিতে সই করবেন বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।

গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত এবারের জলবায়ু সম্মেলনে এটি সবচেয়ে উল্ল্যেখযোগ্য চুক্তি হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

বিবৃতে বলা হয়, বিশ্বের ৮৫ শতাংশ বনাঞ্চল সমৃদ্ধ দেশগুলোর বিশ্বনেতারা এ চুক্তিতে সই করবেন। এরমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রাজিল, রাশিয়া, কলোম্বিয়া , ইন্দোনেশিয়াসহ রয়েছে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো।

এছাড়া বন উজাড় বন্ধে সরকারি-বেসরকারি মিলে বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার ৯২০ কোটি ডলারের তহবিল। পরিবেশবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে ২০১৪ সালে ধীরগতিতে বন উজাড় নিয়ে যে চুক্তি হয়েছিল, তা ব্যর্থ হয়েছে বলেও সতর্ক করেছেন। বনায়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ভুমিক্ষয় রোধে বরাদ্দ বাড়ানোর ওপর জোড় দেয়া হবে।

চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলো প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলে বিশ্বের ৮৫ শতাংশ বন রক্ষা করা সম্ভব হবে। ক্ষতিগ্রস্ত জমি পুনরুদ্ধার, দাবানল নিয়ন্ত্রণ ও আদিবাসী সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করার জন্য উন্নত দেশগুলো তহবিল বরাদ্দ পাবে।

গাছ কেটে ফেলা ও বন উজাড় করে দেওয়া জলবায়ু পরিবর্তনে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। কারণ, গাছ কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়তা করে। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণে আনতে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত দুই সপ্তাহব্যাপী সম্মেলন বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হয়।

২৮টি দেশের সরকার খাদ্য ও অন্যান্য কৃষিপণ্য যেমন পামতেল, সয়া ও কোকোর মতো বৈশ্বিক বাণিজ্যের বিষয়ে এবং বন উজাড় বন্ধ করতে একমত পোষণ করেছে। এ ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পশুচারণ ও শস্য উৎপাদনের জন্য গাছ কেটে উজাড় করে।

বিশ্বের বড় ৩০টির বেশি প্রতিষ্ঠান বন উজাড়ের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগ বন্ধের জন্য একমত হয়েছে। কঙ্গোর বৃষ্টিপ্রধান ক্রান্তীয় বন রক্ষায় ১১০ কোটি ডলারের তহবিল বরাদ্দ করা হবে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজক। তিনি বনাঞ্চল রক্ষায় ঐতিহাসিক চুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন।