করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মেয়াদ ১৬ই মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

সোমবার (৩রা মে) সকালে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর নিজ দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

তিনি জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে মাস্ক ব্যবহারে জোর দেয়া হয়েছে। এছাড়া পুলিশ ও প্রশাসনকে কঠোরভাবে তদারকির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এমনকি স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় মার্কেট-শপিং মল বন্ধ রাখার বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে।

আসন্ন ঈদুল ফিতরে পোশাক কারখানার ছুটি ৩ দিনের বেশি না দেয়ার জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়াও টেরিটোরিয়াল ওয়াটার্স অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস আইন-২০২১ ও বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ আইন ২০২১ খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজের সীমানা, সংজ্ঞা, নিয়ম নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে, শিক্ষার্থীদের ফি নির্ধারণ করবে সরকার। আর কোনো একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হতে হবে। আইন ভঙ্গে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

এর আগে, চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মেয়াদ আগামী ৫ মে পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। গেল ২৮শে এপ্রিল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের সময় বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কঠোর বিধিনিষেধের সুফল ইতিমধ্যে কিছুটা মিলেছে।

এপ্রিলের শুরুতে করোনা শনাক্তের হার ২৪ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল। এ অবস্থায় ১৪ই এপ্রিল সর্বাত্মক বিধিনিষেধ দেয় সরকার। ধাপে ধাপে শনাক্তের হার ১০ শতাংশের নিচে চলে আসে। যদিও বিধিনিষেধ চলেছে ঢিলেঢালা।

কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে গত ১৪ই এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ৮ দিনের কঠোর বিধিনিষেধে শুরু হয়। চলমান বিধিনিষেধের মধ্যে পালনের জন্য ১৩টি নির্দেশনা দেয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। সেই মেয়াদ শেষ হয় গত ২১শে এপ্রিল মধ্যরাতে। তবে, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় বিধিনিষেধের মেয়াদ আগামী ২৮শে এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এরপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ৫ মে পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধের সময় বৃদ্ধি করা হয়।