ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) সভাপতি ও সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীর হৃদযন্ত্রের ধমনীতে তিনটি ব্লক ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ডান দিকের ধমনীতে ৯০ শতাংশের বেশি ব্লক ধরা পড়েছে। সেটির অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করে স্টেন্ট বসানো হয়েছে। 

বাকি দুটিতেও স্টেন্ট বসানো হতে পারে বলে রোববার জানিয়েছিলেন সৌরভের চিকিৎসক সরোজ মণ্ডল। আপাতত দক্ষিণ কলকাতার উডল্যান্ড হাসপাতালে পাঁচজন কার্ডিয়াক স্পেশালিস্টের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে কলকাতার মহারাজকে।

তবু ঝুঁকি নিতে চায় না ভারত সরকার। সৌরভের চিকিৎসায় এই পাঁচ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগ দিতে আসছেন বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠি।ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর, সৌরভের চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরু থেকে চার্টার্ড বিমানে উড়িয়ে আনা হচ্ছে দেবী শেঠিকে। মঙ্গলবার পুরো টিম নিয়ে কলকাতা পৌঁছাবেন দেবী শেঠি। 

হাসপাতালে পৌঁছেই তিনি সৌরভের হৃদযন্ত্রের বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন। এফএফআর পরীক্ষা করাবেন। বিষয়টি নিয়ে মেডিকেল টিমের পাঁচ চিকিৎসকের সঙ্গে বসবেন। এর পর সিদ্ধান্ত নেবেন, বাকি দুটি ধমনীতে স্টেন্ট বসানো হবে কিনা। বাইপাস সার্জারি করার প্রয়োজন রয়েছে কিনা, সে বিষয়েও মতামত দেবেন তিনি।

ভারতের গণমাধ্যম আনন্দবাজর পত্রিকা জানিয়েছে, সোমবার সকালে সৌরভ গাঙ্গুলীর ইকোকার্ডিওগ্রাফি পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্ট সন্তোষজনক বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। তার রক্তচাপ ও নাড়ির গতি স্বাভাবিক। ইতিমধ্যে পাঁচজন থেকে বাড়িয়ে মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ৯ জন করা হয়েছে। 

এর আগে চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, ব্লক ধরা পড়লেও আপাতত বাইপাস সার্জারি করতে হচ্ছে না সৌরভের। তবে দুটি ধমনীতে স্টেন্ট বসানো হবে কিনা তা বুঝেশুনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

জানা গেছে, দেবী শেঠি ছাড়াও শনিবার বেশ কয়েকজন বিদেশি চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করেছেন সৌরভের চিকিৎসক সরোজ মণ্ডল। এ ছাড়া ভারতের প্রখ্যাত কার্ডিয়োথোরাসিক সার্জন রমাকান্ত পাণ্ডা ও ইন্টারভেনশনাল কার্ডিয়োলজিস্ট অশোক শেঠের সঙ্গেও আলোচনা করেন হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা।

অবশেষে দেবী শেঠির ওপরই ভরসা রাখছে সৌরভের পরিবার।

এদিকে সৌরভের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদি।

তার বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে হাসপাতালের সিইও ডা. রূপালী বসু জানান, মানসিকভাবে খুব চনমনে সৌরভ গাঙ্গুলী। তিনি সাধারণ খাবার খেয়েছেন। বাড়ি থেকে আনা চিনিছাড়া চা খেয়েছেন। ছানা, টোস্ট, কর্নফ্লেক্স দিয়ে তিনি ব্রেকফাস্ট সেরেছেন।

রাতে ভালো ঘুম হয়েছে তার। গভীর রাতে একবার ঘুম ভেঙেছিল তার। তাকে ওষুধ খাইয়ে আবার ঘুম পাড়িয়ে দেয়া হয়। সারা রাত একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন। সকালে তার রুটিন চেকআপ করা হয়। সব রিপোর্ট সন্তোষজনক।

শনিবার ট্রেডমিলে হাঁটতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন সৌরভ গাঙ্গুলী। তাকে দ্রুত উডল্যান্ড হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।