আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য একটি সংগঠন হচ্ছে যুবলীগ। তবে দেশের রাজনীতিতে এই সংগঠনের যেমন সুনাম রয়েছে, তেমনি বিতর্কিত কিছু কর্মকাণ্ডের কারণে দলের নেতাকর্মীদের কারনে অনেকটা সুনাম ক্ষুণ্নও হয়েছে।

ক্যাসিনো কেলেংকারি, বিভিন্ন হামলা-মামলা, টেন্ডারবাজি ও কমিটি বাণিজ্যের কারণে গত বছর বেশ আলোচনায় আসে যুবলীগ। ফলে ভেঙে দেয়া হয় যুবলীগের কমিটি। নতুন চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা শেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার ঘোষণা করা হবে যুবলীগের কমিটি। জানা গেছে এই সপ্তাহের শেষের দিকে ঘোষণা হতে পারে যুবলীগের কমিটি।

নতুন এ কমিটি থেকে বাদ পড়ছেন আগের কমিটির ৭৩ জন নেতা। সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ৫৫ বছরের বেশি বয়সিরা যুবলীগের নেতা হতে পারবেন না। এতে আগের কমিটির অনেকে বাদ পড়ছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের নির্দেশে ক্যাসিনোকাণ্ডসহ বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িতদেরও কমিটিতে রাখা হয়নি। সব মিলিয়ে আগের কমিটির ৭৩ জন বাদ পড়ছেন বলে দলীয় একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, পূর্বের বিতর্ক মুছে মূল আদর্শে ফিরতে চায় যুবলীগ। আর সে উদ্দেশ্যেই পরিচ্ছন্ন ইমেজের দক্ষ ও অভিজ্ঞ সাবেক ছাত্রলীগের তরুণেরা এবার কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতা হতে যাচ্ছেন। জেলা পর্যায়ের জনপ্রিয় কয়েক জনকেও নিয়ে আসা হচ্ছে কেন্দ্রে। নতুন মুখ হিসেবে দুই জন জনপ্রিয় সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হতে যাচ্ছেন। ২০টি পদ বাড়িয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির আকার হচ্ছে ১৭১ সদস্যের। জেলা-উপজেলা শাখা থেকে বাদ পড়বেন মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত, চাঁদাবাজ-টেন্ডারবাজ এবং মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতনকারীরা।

দেশের রাজনীতিতে যুবলীগের যেমন সুনাম রয়েছে, তেমনি কতিপয় নেতাকর্মীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সেই সুনাম অনেকটা ক্ষুণ্নও হয়েছে। ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি, বিভিন্ন হামলা-মামলা, টেন্ডারবাজি ও কমিটি বাণিজ্যের কারণে গত বছর বেশ আলোচনায় আসে যুবলীগ। ফলে ভেঙে দেওয়া হয় যুবলীগের কমিটি। যার হাত দিয়ে গড়ে উঠেছিল যুবলীগ, সংকটে পড়ে উদ্ধার পেতে সেই শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশকে তোড়জোড় করে ২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর কাউন্সিলের মাধ্যমে সংগঠনের চেয়ারম্যান করা হয়। একই সঙ্গে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান মাইনুল হোসেন খান নিখিল। তবে সম্মেলনের পর ১১ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। 

প্রসঙ্গত, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে শেখ ফজলুল হক মণির নেতৃত্বে ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক যুব কনভেনশনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা লাভ করে যুবলীগ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আদলে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই প্রতিষ্ঠিত হয় এই সংগঠন। গত চার দশকের বেশি সময় ধরে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও হাজারো নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের মাধ্যমে যুবলীগ আজ দেশের সর্ববৃহত্ যুব সংগঠনে পরিণত হয়েছে।