হেফাজত নেতা মামুনুল হকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা। রবিবার (৪ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে এ দাবি জানান সংগঠনের নেতারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি হেফাজত ইসলাম দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, যানমালের ক্ষতিসাধন করেছে এবং রাষ্ট্রবিরোধী কাজে লিপ্ত রয়েছেন। তাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। সরকারি দল হেফাজতের ব্যাপারে এখনো সুস্পষ্ট অবস্থান নেননি। গতকালকে জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফজলুল করিম সেলিম হেফাজতের বিচারের দাবিতে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠনের দাবি করেছেন। 

অথচ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তথ্য মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ হেফাজতকে ছাড় দিয়ে জামায়াত-শিবিরকে বিচারের দাবি জানিয়েছেন। এ থেকেই স্পষ্ট যে সরকারি দল হেফাজতের ব্যাপারে কোনও সুস্পষ্ট অবস্থান নিতে পারেনি। এতে করে দেশের মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন হেফাজতকে লালন-পালন করছে বলে অনেকেই অভিযোগ করছেন। বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসন হেফাজতকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। তা না হলে গতকালকে এই ধরনের ঘটনা পারতো না।

বক্তারা বলেন, গতকাল থেকে সরকার ৭ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছেন। এতে করে গৃহশ্রমিকসহ শহরের শ্রমজীবী দরিদ্র মানুষেরা এক অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টের মধ্যে নিপতিত হবে। গত লকডাউনে গৃহশ্রমিকসহ নগর দরিদ্ররা সরকারি কোনও সহায়তা পায়নি। এই দরিদ্র মানুষের তাদের সহায় সম্বল শেষ করে গত লকডাউন মোকাবিলা করেছে। এবারের লকডাউনে সরকারি সহায়তা না পেলে এই মানুষদেরকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে তড়িৎ পদক্ষেপ নিতে হবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, লকডাউনে সকল কিছু বন্ধ রাখার ঘোষণা দিলেও গার্মেন্টস শিল্প খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। এতে করে গার্মেন্টস শ্রমিকরা স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যেই থেকে গেল। শ্রমিকরা এই স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে দেশের উৎপাদনে নিয়োজিত থাকলেও তারা রাষ্ট্রীয় কোনও সহায়তা পায় না। বরং রাষ্ট্রীয় সহায়তা পায় গার্মেন্টস মালিকরা। এ থেকে শ্রমিকদের মধ্যে সরকারি নীতির প্রতি বিক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। যা প্রশমনে সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। গার্মেন্টস শ্রমিকদের পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরকারি সহায়তাদানের আহ্বান জানান।

জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মমতাজ বেগমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মুর্শিদা আখতার নাহারের পরিচালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা আবুল হোসাইন, কৃষক নেতা মোস্তফা আলমগীর রতন, ছাত্রনেতা কাজী আব্দুল মোতালেব জুয়েল ও গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক নেত্রী আমেনা বেগম প্রমুখ।