বাংলাদেশের শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান পদে ২য় বারের মতো নিযুক্ত বিচারপতি মোঃ আব্দুল হাই আজ তাঁর বিচারক জীবনের ৫০ বছর পূর্ণ করলেন। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের তিনিই ১ম বিচারক, যিনি বিচারক হিসাবে ৫০ বছর দায়িত্ব পালন করছেন। 

বিচারপতি মোঃ আব্দুল হাই  ১৯৭০ সালের ২৯ অক্টোবর ইপিসিএস (বিচার) ক্যাডারে “মুন্সেফ” হিসেবে সরকারি চাকুরিতে যোগদান করেন। ১ম পোস্টিং হিসেবে তিনি নারায়ণগঞ্জ মহুকুমার (বর্তমান সমগ্র নারায়ণগঞ্জ জেলা) দায়িত্ব পান। চাকুরিতে যোগদানের মাত্র ৫ মাসের মাথায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে একজন নবীন কর্মকর্তা হিসেবে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি নারায়ণগঞ্জের তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা শামসুজ্জোহা, আব্দুর রাজ্জাক এম এন এ, এড. ফজলুর রহমান প্রমুখ সাহেবের নির্দেশনায় বিভিন্নভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করেন।

বিভিন্ন পদে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি ১৯৮৬ সালে জেলা ও দায়রা জজ পদে পদোন্নতি লাভ করে ঝালকাঠী, গাইবান্ধা ও নরসিংদী জেলার দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে প্রশাসনিক আপীল ট্রাইব্যুনালের সদস্য (বিচার) পদে ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে সচিবালয়ের কর্মকর্তারা "জনতার মঞ্চ" তৈরী করলে তিনি তাতে যোগ দেন। পরে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে যুগ্ম-সচিব ও অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ২৫ মে ২০০০ তারিখ হতে ২০০১ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের আগে পর্যন্ত আইন সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। আইন সচিবের দায়িত্ব পালনকালে তাঁর তত্বাবধানে সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের কাজ শেষ হয়। ২০০১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবন উদ্বোধন করেন এবং দায়িত্ব পালনের উপহার স্বরূপ ২০ ফেব্রুয়ারী বিচারপতি হিসাবে  নিয়োগ পান এবং ২২ ফেব্রুয়ারী শপথ গ্রহণ করেন। 

বিচারপতি মোঃ আব্দুল হাই বিগত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে বাদ পড়া ১০ বিচারপতির একজন।

তিনি ২ পুত্র সন্তানের জনক। তাঁর বড় ছেলে মোঃ আরিফুল হাই রাজীব বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ও ছোট ছেলে ব্যারিস্টার মোঃ ইমরানুল হাই সজীব বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য ও  সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।