ঈদযাত্রার এই সময়ে টাঙ্গাইলে মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এতে বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে টাঙ্গাইল শহর বাইপাস পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার অংশে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার ভোর থেকে এই সড়কে থেমে থেমে চলছে যানবাহন। মহাসড়কে আটকে থেকে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের চাপ রয়েছে। পাশাপাশি কোরবানির পশুবাহী যানবাহনের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি যানবাহন চলাচল করছে মহাসড়কে।

বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল প্লাজা সূত্র জানায়, স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন ১২–১৩ হাজার যানবাহন এই সেতু পারাপার হয়। কিন্তু শুক্রবার সকাল ছয়টা থেকে শনিবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ হাজার ৯১২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। শনিবার সকালের পর থেকে যানবাহনের সংখ্যা আরও বেড়েছে।

অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্তে সিরাজগঞ্জের দিকে গভীর রাত থেকেই যানজটের সৃষ্টি হয়। ওই যানজটের সারি দীর্ঘ হতে হতে সেতুর পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত চলে আসে। এ জন্য শনিবার ভোর পর্যন্ত তিন দফা সেতুতে টোল আদায় বন্ধ হয়ে যায়। যানজট দীর্ঘ হতে হতে টাঙ্গাইল শহর বাইপাস পর্যন্ত চলে আসে।

শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে টাঙ্গাইল শহর বাইপাস পর্যন্ত সরেজমিন দেখা যায়, মহাসড়কের উত্তরবঙ্গগামী লেনের পুরোটাই যানবাহনে ঠাসা। একই স্থানে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে অনেক সময়। ধীরগতিতে কিছু দূর এগোতেই যানবাহনগুলোকে আবার থেমে থাকতে হচ্ছে।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রসুলপুর এলাকায় ট্রাকচালক সোবহান মিয়া বলেন, শহর বাইপাসের আশেকপুর থেকে রসুলপুর পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে তাঁর প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে।

কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা সিএনজি স্টেশন এলাকায় কথা হয় জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে। তিনি ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ঢাকা থেকে রাজশাহী যাচ্ছিলেন। জাহাঙ্গীর বলেন, স্বাভাবিক সময়ে ঢাকা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত আসতে তিন ঘণ্টারও কম সময় লাগে। কিন্তু শনিবার তাঁর আসতে সাত ঘণ্টা সময় লেগেছে।

যানজটের কারণে রাস্তায় আটকে থেকে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। বগুড়াগামী বাসের যাত্রী দেলোয়ার হোসেন বলেন, টানা এক কিলোমিটার সড়কও অতিক্রম করা যাচ্ছে না। একটু এগিয়েই আটকে যেতে হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কে আটকে থেকে গরমে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

যানজট নিরসনে মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশে জেলা পুলিশের ছয় শতাধিক সদস্য কাজ করছেন বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। এর বাইরে হাইওয়ে পুলিশও কাজ করছে। জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি ও পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় দুপুরে মহাসড়ক পরিদর্শন করেন।