স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকাকে নিয়ে প্রকাশ্য এক সমাবেশে ব্যঙ্গ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরি ইউনিয়নের বালিজুরী মাদ্রাসা মাঠে গত ২৬ নভেম্বর এলাকার ‘ঐক্য প্রক্রিয়া’ নামে আয়োজিত এক জনসভায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক প্রভাষক আহমদ আলী প্রশ্ন রেখে বলেন – আমরা প্রতীক পেলাম আমাদের ভোট গেল কোথায়?


জানা গেছে, আহমদ আলী স্থানীয় একটি বেসরকারি কলেজের প্রভাষক এবং সপ্তম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বালিজুরি ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমানের বড় ভাই।



 

সরকারের একটা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে – দলীয় প্রতীক, সেই দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করে আপনারা আশেপাশে দেখেছেন। আমরা প্রতীক পেলাম কিন্তু আমাদের ভোট গেলো কোথায়?

আমরা হেরে গেলাম। আমাদের ওপারে জহুর ভাই পাশ করে গেলো। সেই পাস কিন্তু পাস না। সেই পাস ছিলো নকলের পাস। নকল করে পাস করে যেভাবে কৃতিত্ব নেই। ভোট হাইজ্যাক করে, প্রশাসনকে ব্যবহার করে, শক্তিকে ব্যবহার করে নির্বাচিত হলে পরে, সেই জনগণের সেবা করতে পারে নাই পারবেও না।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন প্রার্থীদের আগাম প্রচারণা জমে উঠেছে। বিশেষ করে গত নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে আওয়ামীলীগ মনোননিত প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান ও বালিজুরি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান ও তার প্রধান প্রতিদ্বদ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ফেরদৌছ আলম নিজেদের প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন।

আতাউর রহমান ছাড়াও বালিজুরী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে আছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য মিলন কুমার তালুকদার, বাংলাদেশ স্থলবন্দর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আজাদ হোসেন এবং উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ সামায়ূন কবীর।

আহমদ আলী গত ২৬ নভেম্বর তারিখের একটি প্রকাশ্য সভায় ঘোষণা করেছেন, এইবার নৌকার অবস্থা ভাল না। তাই নৌকা পেলেও নির্বাচন করবেন, না পেলেও তারা নির্বাচন করবেন। আরো বলেছেন, জোট থাকলে বিজয় ছিনিয়ে আনবোই। মার্কাতে ভোট দেব না,ভোট দেব ব্যক্তিকে।

সভায় জামায়াতে ইসলামীর ভিন্ন ফ্রন্ট নামে পরিচিত বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সহকারী সেক্রটারী ও জেলা জামায়াতের রোকন মো. জসীম উদ্দিন বক্তব্য রাখেন। জামাত নেতা বক্তব্য প্রকাশ্যে তিনি আতাউর রহমানকে সমর্থন জানান এবং আগামী নির্বাচনে তাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

শুধু তাই নয়, সভায় এক বক্তা আতাউর রহমানকে ৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে এক আওয়ামীলীগ নেতা জানান, দুই গ্রামের ভোটারদেরকে নিয়ে প্রকাশ্য সেই সভায় আতাউর রহমান দুইবার বক্তব্য রাখলেও তিনি দলীয় চেতনার স্লোগান – জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু একবারও বলেননি।

আতাউর রহমান আয়োজিত মতবিনিময় সভা, সভায় প্রকাশ্যে আওয়ামী বিরোধী নেতা-কর্মীদের আতাউরকে সমর্থন দান ও ৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা এবং দলীয় নেতা হয়েও আহমদ আলীর দল বিরোধী বক্তব্য দান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি ধরকে ফোন করলে পাওয়া যায় নি।

দলীয় নেতা হয়েও আহমদ আলীর দল বিরোধী বক্তব্য দান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আহমদ আলী বলেন, এবারই প্রথম নয়, আতাউরের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১৫ আগস্টের শোক দিবসে ডাক্তার মাফিক নামক আওয়ামী লীগ বিরোধের এক ব্যক্তিকে গলায় মাল্যদান করে শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করেছিলেন বলেন অভিযোগ রয়েছে।

প্রকাশ্য সেই সমাবেশে সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব, এলাকার শিবির কর্মী ও বিএনপি-ছাত্রদলের কর্মী-সমর্থকেরা বক্তব্য রাখেন। অভিযোগ আছ, সেদিনকার জনসভার বিএনপি-জামাতের অধিকাংশ নেতাকর্মীর উপস্থিতি দৃশ্যমান ছিল।