নিউজিল্যান্ডে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে এখানে কোন শোরগোল হয় না, শান্ত নিরিবিলি পরিবেশে লাখ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এবারের নির্বাচনেও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নের লেবার পার্টি।

স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। আর শেষ হবে সন্ধ্যা ৭টায়। যদিও এরই মধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষ আগে ভাগেই গত ৩ অক্টোবর ভোট প্রয়োগ করেছেন।  দেশটিতে সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল সাধারণ নির্বাচন। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে তা এক মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়।

শান্তির দেশ নিউজিল্যান্ডে নির্বাচন উপলক্ষে কোনো মিছিল, মিটিং, মাইকিং, স্লোগান এসব কিছুই হয় না। শুধু টেলিভিশন, খবরের কাগজে কিছু আলোচনা, বিতর্ক আর রাস্তার কোথাও কোথাও থাকে প্রার্থীদের প্ল্যাকার্ড। সাধারণ প্রার্থী থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত সব প্রার্থীই নিজের হাতে সীমিত আকারে লিফলেট বিতরণ করেন। নির্বাচনী সমাবেশ দু'একটি হলেও তা হয় নির্দিষ্ট কোনো জায়গায়, কারো কোনো কষ্টের উদ্রেক না করে।

এদিকে, নির্বাচনের আগে মতামত জরিপে দেখা গেছে, ফের জিততে যাচ্ছেন লেবার পার্টির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা। সাফল্যের সঙ্গে করোনা মহামারি মোকাবিলা করতে পারায় আগের চেয়ে তার জনপ্রিয়তা অনেকটাই বেড়েছে।

ইতিমধ্যে দৃঢ়তার সঙ্গে জেসিন্ডা ঘোষণা দিয়েছেন যে, এই নির্বাচনে জিততে না পারলে দলের প্রধানের পদ থেকেও সরে দাঁড়াবেন তিনি।

এক জরিপে দেখা গেছে, অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে আছে লেবার পার্টি। ৩১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয়স্থানে আছে রক্ষণশীল ন্যাশনাল পার্টি।

নিউজিল্যান্ড সংসদে আসন সংখ্যা ১২০টি। তা রমধ্যে ৭২টি আসন সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয় এবং বাকি ৪৮টি আসন নির্বাচিত হয় দল কত শতাংশ ভোট পেলো তার ভিত্তিতে।

নিউজিল্যান্ডে আগাম ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে ৩ অক্টোবর থেকে। নিউজিল্যান্ডের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দেশটিতে আগাম ভোট দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। ২০১৭ সালের সাধারণ নির্বাচনে আগাম ভোট পড়েছিল ৪৭ শতাংশ। যা চলতি নির্বাচনে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।