প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। দোহার-নবাবগঞ্জ নিয়ে গঠিত ঢাকা-১ আসনের এমপি। দোহার ও নবাবগঞ্জকে ঘিরে তার স্বপ্ন আকাশছোঁয়া। তার প্রচেষ্টায় ঢাকার দোহার উপজেলার মাঝিরচর থেকে নারিশা বাজার হয়ে মুকসেদপুর পর্যন্ত পদ্মা নদী ড্রেজিং ও বাম তীর সংরক্ষণসহ ১১ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয় একনেক বৈঠকে। এরমধ্যে দোহারের প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ব্যয় হবে ১ হাজার ৪৮৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজার মিটার নদী তীর সংরক্ষণ, ৪২২ দশমিক ৫৫ মিটার অ্যান্ডটার্মিনেশন এবং ড্রেজিং করা হবে ২৪ কিলোমিটার নদী।

এর আগে দোহারের বালেঙ্গা থেকে নয়াবাড়ি বাহ্রাঘাট পর্যন্ত ৩.৫ কিলোমিটার পদ্মা তীর সংরক্ষণ বাঁধ প্রকল্প কাজ সম্পন্ন হয়েছে ২১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে।

এ ছাড়া দুই উপজেলায় দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল, নবাবগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানা জোন, উপজেলা সদরের কলাকোপাকে আধুনিক শহর, পদ্মার তীরকে ঘিরে পর্যটন এলাকা, রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়নসহ মেগা সব প্রজেক্টের পরিকল্পনা রয়েছে।

দোহার ও নবাবগঞ্জে যেকোনো দুর্যোগে সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত তহবিল নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়ান সালমান এফ রহমান। দোহার-নবাবগঞ্জের  হতদরিদ্র মানুষের পাশে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে হাজির হন দরিদ্র পরিবারের হাতে তুলে দেন এসব ত্রান। এর অংশ হিসেবে গত এক সপ্তাহ ধরে দোহার-নবাবগঞ্জের শীতার্ত মানুষের জন্য প্রায় ২১ হাজার ৬শ কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সালমান এফ রহমানের ছবি সম্বলিত স্টিকার রয়েছে এইসব কম্বলে। আর এ কম্বল বিতরণ হচ্ছে সালমান এফ রহমানের বাবার নামে গড়া ফজলুর রহমান ফাউন্ডেশন থেকে।

দোহার-নবাবগঞ্জের শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ফজলুর রহমান ফাউন্ডেশনের মহাসচিব বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ। 

তিনি জানান, দরিদ্র মানুষের জন্য যে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে তার মনিটরিং প্রতিটি ক্ষেত্রে করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুসারে সেই কম্বলের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হবে বলেও জানান তিনি। হতদরিদ্র মানুষের জন্য ত্রাণসামগ্রী নির্বিঘ্নে যাতে পৌঁছাতে পারে তার জন্য দুই উপজেলার চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এসিল্যান্ড, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সম্পাদক পর্যবেক্ষণ করে তা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এমনকি আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গসংগঠনের উপজেলা থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যন্ত সকল নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে বিতরণ কার্যক্রম চলছে।  

এর আগে করোনা ও বন্যার সময়ও সরকারের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত সহায়তা ছিল। ২০২০ সালে করোনার কারণে লকডাউনের সময় তিনি ব্যক্তিগতভাবে দোহার-নবাবগঞ্জের আড়াই লাখ মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন। এ ছাড়া বন্যাকবলিত ১৫ হাজার পরিবারের ৬০ হাজার দুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণসামগ্রী দেন তিনি। নিয়মিত মাস্ক বিতরণ করেছেন জনগণকে সুরক্ষার জন্য। বন্যার সময় সহযোগিতা করেছেন বন্যার্তদের। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার দুই বছরের মধ্যে এ সমস্ত কার্যক্রমের মধ্যদিয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন সালমান এফ রহমান।

এ ছাড়া দোহার ও নবাবগঞ্জে যেকোনো অপরাধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন সালমান এফ রহমান। অপরাধ করলে দলীয় নেতাকর্মীদেরও ছাড় দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ফলে মাদক ও অবৈধ মাটি কাটা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। সালমান এফ রহমানের এমন সিদ্ধান্তে খুশি সাধারণ জনগণ।

রাজনীতির মাঠে দৃষ্টিভঙ্গির পরিববর্তন করে ইতিবাচক রাজনীতির ধারায় নেতাকর্মীদের নিয়ে আসতে কাজ করে যাচ্ছেন সালমান এফ রহমান এমপি। নেতাকে ঘিরে মোটরসাইকেল মহড়া, মিছিল, স্লোগান আর ছবি দিয়ে ব্যানার-ফেস্টুনের রাজনীতির ধারা পরিবর্তনে এখন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সফল এই মানুষটি। ইতিমধ্যে দোহারে অবৈধ একটি ভবনে দীর্ঘসময় ধরে চলে আসা নিজ দলীয় সকল কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে নিজ অর্থায়নে দলীয় কার্যালয় করে দেয়ার কথা বলে আলোচনায় আসেন সালমান এফ রহমান। প্রশাসনকে নির্দেশ দেন অবৈধ ওই ভবনের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার।

স্বেচ্ছাসেবামূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জনসাধারণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করবে বলেও প্রত্যাশা সালমান এফ রহমানের।