যুক্তরাষ্ট্রে গত বছর পুলিশি বর্বতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় দুজনকে গুলি করে হত্যা করা কাইল রিটেনহাউজকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন দেশটির আদালত। শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) ১৮ বছর বয়সী এ কিশোরের বিরুদ্ধে থাকা সব অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন ১২ সদস্যের একটি জুরি বোর্ড।

২০২০ সালের আগস্টে উইসকনসিনে জ্যাকব ব্লেক নামে এক কৃষ্ণাঙ্গের সঙ্গে পুলিশের বর্বর আচরণের প্রতিবাদে আন্দোলনের ঝড় ওঠে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে। সেসময় কেনোশায় বিক্ষোভ ও দাঙ্গার মধ্যে তিনজনকে গুলি করেন রিটেনহাউজ। এতে দুজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রিটেনহাউজের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ ইচ্ছাকৃত হত্যা। এই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারতো।

তবে আদালতের শুনানিতে রিটেনহাউজ দাবি করেন, তিনি আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছিলেন এবং লুটেরাদের হাত থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষার জন্য কেনোশায় গিয়েছিলেন।

কিন্তু তার সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন বাদীপক্ষ এবং আন্দোলনকারীরা। প্রসিকিউটররা বলেছেন, সেই সময় ১৭ বছর বয়সের রিটেনহাউজ কেনোশার দাঙ্গা উসকে দিয়েছিলেন। তারা জানিয়েছেন, সুদূর ইলিনয়েস অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী রিটেনহাউজ কেনোশায় গিয়েছিলেন স্ব-নিযুক্ত ‘জুনিয়র পুলিশ’ হিসেবে এবং সেখানে একের পর এক বেপরোয়া সিদ্ধান্ত নেন।

এরপরও জুরির চোখে রিটেনহাউজ সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে। বন্দুক নিয়ন্ত্রণ গ্রপ ‘মমস ডিমান্ড অ্যাকশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা শ্যানন ওয়াটস আদালতের রায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, এক কিশোর এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে গিয়ে তিনজনকে গুলি ও দুজনকে হত্যা করেছে, এরপরও কোনো শাস্তি হয়নি; এটি ‘ন্যায়বিচারের গর্ভপাত’ এবং আমাদের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার কলঙ্ক।

নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডে ব্লাসিও বলেছেন, এই রায় দেশজুড়ে একটি ভয়ঙ্কর বার্তা পাঠাবে। এটিকে ‘ন্যায়বিচারের গর্ভপাত’ বলাও কম।

উইসকনসিন প্রতিনিধি গোয়েন মুর টুইট করেছেন, যে ব্যবস্থা স্বপ্রণোদিত হত্যাকে বৈধতা দেয়, তা গভীরভাবে চূর্ণ-বিচূর্ণ।