নিজস্ব প্রতিবেদক: পদোন্নতির জন্য শিশু হাসপাতালে এক ছাত্রের থিসিস নিজের গবেষনা হিসেবে আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশ করার অভিযোগ উঠেছে সার্জারি বিভাগের সদ্য চাকুরী চ্যুত সহকারি অধ্যাপক ডাঃ সাব্বির করিমের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, শিশু হাসপাতালের এম এস ফেজ বি-২০১৯ এর ছাত্র হাওলাদার মুহাম্মদ মেজবাহ উদ্দীনের থিসিস পেপারের একই টাইটেল ব্যবহার করে নিজের নামে আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশ করে সহকারি অধ্যাপক ডাঃ সাব্বির করিম। যার ফলে ছাত্রের এই থিসিস নিয়ে নানা জটিলতায় পড়তে হচ্ছে। উল্লেখ্য যে সহকারি অধ্যাপক সাব্বির করিম নিজেই ঐ ছাত্রের কো গাইড শিক্ষক।

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব চাইল্ড হেল্থ(শিশু হাসপাতালের) একাডেমিক পরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হাওলাদার মুহাম্মদ মেজবাহ উদ্দীন।

এথিক্যাল কমিটি থেকে অনুমোদন নেয়া থিসিসের বিষয় ছিল, “Outcome of muscle complex saving posterior sagittal anorectoplasty for high and intermediate variety anorectal malformation.”

মেজবাহ উদ্দীন একাডেমিক পরিচালক বরাবর অভিযোগে লিখেন, “আমি জুলাই ২০১৯ থেকে আমাদের ইন্সটিটিউট থেকে অনুমোদন নিয়ে (থিসিস ও এথিকাল কমিটি) আমার থিসিস এর উপর কাজ শুরু করেছি। আমার কো-গাইড দেড় বছর পর আমার থিসিসটি আন্তর্জাতিক জার্নালে আর্টিকেল বের করেছে। এর ফলে আমার থিসিস নিয়ে ব্যপক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।”

চলতি বছরের ১৩ই জুলাই শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্যদের নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করার অপরাধে শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাকুরিচ্যুত করেন সাব্বির করিমকে।

তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “২০১৫ সাল থেকে আমি এই বিষয়ের উপর গবেষনা করছি। এই বিষয়ে ৩৭টি সাকসেসফুল অপারেশন আমি করেছি। আমার গবেষনা নিয়ে আমি জার্নালে এপ্লিকেশন করতেই পারি। আমি আমার গবেষনা জার্নালে দিয়েছি। এবং কর্তৃপক্ষ সেটা বিবেচনায় নিয়ে আমার ৩৭ অপারেশনের ডাটা দেখে গবেষনা প্রকাশ করেছে।”

তবে নিজের একজন ছাত্রের চলমান একটা গবেষণা যেখানে তিনি নিজেই আবার একজন গাইড (প্রশিক্ষক) হিসেবে ছিলেন সেই গবেষণা সম্পুর্ণ হওয়ার আগেই তা জার্নালে প্রকাশ করায় শিক্ষক হিসেবে তার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুধু মাত্র পদোন্নতি বাগিয়ে নেওয়ার জন্য তড়িঘড়ি করে এই অসম্পূর্ণ গবেষণা প্রকাশ করে নিজের ছাত্রের শিক্ষাজীবন এ সমস্যার সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাওলাদার মুহাম্মদ মেজবাহ উদ্দীনের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “এথিকাল কমিটির কাছে থেকে ২০১৯ সালে অনুমতি নিয়ে সে কাজ শুরু করেছে। তার থিসিস এখনও শেষ হয় নি। মাত্র ৩/৪টা অপারেশনের রিপোর্ট সে দেখাতে পারবে। তাহলে আমি কিভাবে তার গবেষনা চুরি করে নিয়ে নিলাম। আর আমি যে এই বিষয় নিয়ে কাজ করছি সেটা তো হাসপাতালের সবাই জানে। তার পরেও কেন তাকে এই বিষয় দেয়া হলো?

আপনি কো-গাইড হয়ে তখন কেন প্রতিবাদ করেননি জানতে চাইলে সাব্বির করিম বলেন, “এটা নিয়ে হাসপাতালে বহু কিছু হয়েছে। এই জন্যই মেজবাহ থিসিস আটকে গেছে।”

এ বিষয়ে হাসপাতালের একাডেমিক শাখার পরিচালক প্রফেসর ফরিদ আহমেদ বলেন, “হাসপাতাল থেকে একটি আদেশ দেয়া হয়েছে আমরা কোন বিষয়ে মিডিয়াতে কথা বলতে পারবো না। তাই এই বিষয়ে আমি কোন কথা বলতে চাই না।”

তৎকালিন সময়ের থিসিস কমিটির সভাপতি প্রফেসর মোহাম্মদ হানিফ বলেন, “আমরা যখন এই বিষয়ের উপরে এথিকাল কমিটি থিসিসের জন্য অনুমোদন দেই তখন কেউ কোন অভিযোগ করেন নি। তখন যদি কেউ বলতো যে এর উপরে অন্য কেউ কাজ করছেন তাহলে তখনই এর একটা সমাধান হয়ে যেত।

“তাছাড়া অন্যের গভেষনা নিয়ে কাজ করা তো কোন দিনই কাম্য নয়, এটা কিউ করে থাকলে ঠিক করে নি। আমি এখন অবসরে গিয়েছি, আমি থাকাকালে এই বিষয় নিয়ে কোন শিক্ষক কাজ করেছে সেটা আমার জানা নেই।”