১৬ বছর দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে চাকরি করার পরও চাকরি নিয়মিতকরণের না হওয়ায় বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকে মানববন্ধন করেছে এসব কর্মচারীরা।
সোমবার চাকুরী নিয়মিতকরণের দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নেন তারা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, দীর্ঘ ১৬ বছর দৈনিক হাজিরার ভিক্তিতে চাকরি করার পর নিয়মিতকরণের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দাখিল করায় বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ করোনাকালীন (৫ মে ২০২১) ঈদুল ফিতরের আগ মুহূর্তে অফিস থেকে বের করে দেয়।

দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে কাজে ছিলেন এমন একজন অফিস সহায়ক মো. সিরাজ উদ্দিন মানববন্ধনে বলেন, "শিক্ষামন্ত্রী বরাবর আবেদনের প্রেক্ষিতে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের নিকট প্রস্তাব প্রেরণের পত্র দেওয়া হলেও বোর্ড কর্তৃক কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। গত ১৪ মার্চ মহামান্য হাইকোর্ট “বিদ্যমান শূন্যপদে বাদীগণকে কেন নিয়োগ করা হবে না” মর্মে ৪ (চার) সপ্তাহের সময় দিয়ে রুল জারি করার পরেও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বর্তমান প্রশাসন কোন জবাব দাখিল করেননি। যা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অমান্যের সামিল।"

অফিস সহায়ক মো. মাহফুজুল হক বলেন, "মাষ্টাররোলের কর্মচারীরা পূর্ব প্রচলিত নিয়োগের ধারাবাহিকতায় বোর্ডে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন। ইতোপূর্বেও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা’সহ অন্যান্য বোর্ডসমূহে মাষ্টাররোলে নিয়োগ দিয়ে পরবর্তীতে এডহক নিয়োগের মাধ্যমে অনেকের চাকুরী নিয়মিতকরণ করা হয়েছে।"

মাষ্টাররোলে নিয়োজিত ৩ জন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও ৬ (ছয়) জন অফিস সহায়ক চাকরি নিয়মিতকরণের জন্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেছিলেন জানিয়ে অফিস সহায়ক আব্দুল লতিফ তালুকদার বলেন, "মামলা দায়ের করার কারণে ৭ জন কর্মচারীকে অফিস থেকে বের করে দেয়া হয়। অন্য ২জন কর্মচারীদের দিয়ে অদ্যাবধি কাজ করানো হচ্ছে।"

দীর্ঘ ৫মাস কর্মহীন থাকায় ওই ৭ জন কর্মচারী পরিবার পরিজন নিয়ে আর্থিক সমস্যায় আছেন জানিয়ে এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘ সময় কাজ করার প্রেক্ষিতে তাদের সরকারি চাকরিতে আবেদন করার বয়স অনেক আগেই অতিক্রান্ত হয়েছে। এর ফলে তারা অন্য সরকারি দপ্তরে আবেদন করার সুযোগও হারিয়েছেন। এ কারণেই ১৬ বছর কাজ করার পরও চাকরি নিয়মিতকরন না হওয়ায় তারা মানববন্ধনে দাড়িয়েছেন।