গোয়ার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনো ফালেরিও তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার তিনি কলকাতায় এসেছিলেন। গতকাল বুধবার তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন বলে জানানো হয়। মমতা ব্যানার্জি এক টুইটে বলেছেন, এটা আমার কাছে খুবই গর্বের যে গোয়ার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, সাত বারের বিধায়ক লুইজিনহো ফালেরিওকে তৃণমূল পরিবারে স্বাগত জানাতে পেরেছি। গোয়াবাসীর পাশে আমরা একসঙ্গে দাঁড়াব। গোয়াতে নতুন ভোরের জন্য আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। লুইজিনহো সম্প্রতি কংগ্রেস ছেড়েছেন ও বিধায়ক পদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন। আগামী দিনে লুইজিনহোকে গোয়াতে তৃণমূলের মুখ হিসাবে তুলে ধরা হবে।


এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার ভবানীপুর আসনে উপনির্বাচন আজ। এই আসনের ভোটেই নির্ধারিত হবে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রী থাকছেন কিনা। তার বিরুদ্ধে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। মমতার মতো ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী না হলেও নির্বাচনে তিনি বড় চ্যালেঞ্চ ছুড়ে দেবেন বলে দাবি বিজেপির।


গত বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে যান মমতা ব্যানার্জি। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী তাকে মুখ্যমন্ত্রী থাকতে হলে ছয় মাসের মধ্যে কোনো আসনের উপনির্বাচনে জিতে আসতে হবে।


২০১১ ও ২০১৬ সালে ভবানীপুর আসন থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন মমতা। সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের শোভনদেব চৌধুরী এই আসনে জয়ী হন। মমতা যাতে এই আসন থেকে উপনির্বাচন করতে পারেন সেজন্য বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেন শোভনদেব। আসনটি শূন্য হওয়ার পর এই উপনির্বাচন হচ্ছে। যে কারণে এই নির্বাচনকে মমতার মুখ্যমন্ত্রী থাকার নির্বাচন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।


তবে নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে নানা প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপিও। প্রতিটি বুথের ভেতরে একজন পোলিং এজেন্ট থাকার পাশাপাশি, কয়েক জনকে বুথের বাইরেও রাখবে বিজেপি। বুথের বাইরে থাকা বিজেপি সদস্যরা ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। সকাল সকাল যাতে ভোটাররা ভোট দিতে পারেন, তাও নিশ্চিত করতে চায় বিজেপি। দলটির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাবেক সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, বিজেপির লড়াইয়ের ফলে চাপে পড়ে গেছেন মমতা ব্যানার্জি। তার পক্ষে এখন জেতা আদৌ সম্ভব না। তাই মন্ত্রীদের পাড়ায় পাড়ায় ঘুরতে হচ্ছে। শক্তি লাগিয়ে, গুন্ডা লাগিয়ে ভয় দেখিয়ে তিনি জেতার চেষ্টা করছেন। গতকাল বুধবার মেদিনীপুরে দলীয় অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি আশা করেন, ভবানীপুরের ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণ হবে।


ভবানীপুরে নির্বাচন পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোট ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করছে নির্বাচন কমিশন। খবরে বলা হয়েছে, ভবানীপুরের উপনির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন। প্রথমে ১৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু ভোটের আগের দিন কমিশন জানিয়েছে, আরো অতিরিক্ত ২০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকবে ভবানীপুরে। এছাড়া ভবানীপুরে এক জন সাধারণ পর্যবেক্ষক, এক জন পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং এক জন অতিরিক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক থাকবেন। বুথের ২০০ মিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এছাড়া শমসেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুর আসনের বিধানসভা নির্বাচনে থাকবেন এক জন করে সাধারণ পর্যবেক্ষক এবং এক জন পুলিশ পর্যবেক্ষক।


পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভোটের আগের দিন টানা বৃষ্টিতে থইথই করছে ভবানীপুরের বিভিন্ন এলাকা। এ অবস্থায় ইভিএম, মেশিন, সমস্ত সামগ্রী প্লাস্টিকে মুড়ে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভোটারদের জন্য বিশেষ ছাউনির ব্যবস্থা করা হয়েছে।


সূত্র: আনন্দবাজার।