করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়াতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান 'পিপলএনটেক' সম্প্রতি বাংলাদেশে দুই হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ২ কোটি টাকার 'কোভিড রিকোভারি স্কলারশিপ'-এর ঘোষণা দিয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী এই স্কলারশিপ পেতে আবেদন করেছেন। তাদের মধ্য থেকে লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষার মাধ্যমে ২ হাজার শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। 

এতে মোট ৯টি কোর্স রয়েছে। এ স্কলারশিপের শিক্ষার্থীরা কেউ যদি পরবর্তীতে অ্যাডভান্স কোর্স করতে চায় তবে সেক্ষেত্রে তারা ৫০% স্কলারশিপ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। যারা এবার আবেদন করে স্কলারশিপের জন্য বিবেচিত হননি, ভবিষ্যতে পিপলএনটেকের যে কোনো স্কলারশিপের ক্ষেত্রে তারা অগ্রাধিকার পাবেন বলেও পিপলএনটেক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

গত ১২ সেপ্টেম্বর ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে 'কোভিড রিকোভারি স্কলারশিপ-২০২০' এর উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি 'বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ'-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) হোসনে আরা বেগম (এনডিসি)। ভার্চুয়াল এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- পিপলএনটেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারহানা হানিপ এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়ন মো. ইউসূফ খান ও 'আমরাই ডিজিটাল বাংলাদেশ ফোরাম'-এর সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত হোসেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হোসনে আরা বেগম পিপলএনটেকে-এর এমন উদ্যোগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে যে কোনো প্রয়োজনে তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। সেই সঙ্গে তিনি তথ্যপ্রযুক্তি বিকাশে ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজে তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। এ সময় শেখ হাসিনা ইনন্সটিটিউট অব টেকনোলজি প্রতিষ্ঠার অগ্রগতির খবরও জানান হোসনে আরা বেগম।

সূচনা বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে লায়ন মো. ইউসূফ বলেন, 'আপনাদের মাধ্যমেই এগিয়ে যাবে এবং প্রযুক্তি বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।'

বিশেষ অতিথি লিয়াকত হোসেন বলেন, 'বর্তমান বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে গার্মেন্টস সেক্টরের ওপর। কিন্তু প্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুললে সেটি আমাদের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।'

প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম তুলে ধরে পিপলএনটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারহানা হানিপ বলেন, 'পিপলএনটেক এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৬ হাজারের বেশি বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে, যাদের বেশির ভাগই নারী। এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম একটি লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা সিঙ্গেল কিংবা বেকার মায়েদের প্রযুক্তিভিত্তিক কাজ শিখিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।'

পিপলএনটেকের সিইও আবুবকর হানিপ বলেন, 'পিপলএনটেক মাত্র ৪ মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে শিক্ষার্থীদের ১২০ থেকে ১৪০ হাজার ডলারের চাকরি দিতে পেরেছে। শুধু ব্যাচেলর বা মাস্টার্স ডিগ্রিধারী নয়, গৃহিণী, রেস্তোরা কর্মী ও কম্পিউটার সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান আছে অন্যান্য এমন শিক্ষার্থীদের রিয়েল লাইফ প্রজেক্ট নির্ভর এমন প্রশিক্ষণ দেয়  পিপলএনটেক, যেন তারা চাকরি পেয়েই সেই কাজটি দক্ষতার সঙ্গে করতে পারে।'

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও অভিনব এক শিক্ষা মডেল তৈরি করা নিয়ে তারা কাজ করছেন। যে মডেলের মূল লক্ষ্য বেকারত্ব দূর করা ও শিক্ষার্থীদের কম সময়ে আরও দক্ষ করে তোলা। যেন চাকরিতে প্রবেশ করেই সে মিড লেভেল পর্যায়ের দক্ষতা নিয়ে কাজ করতে পারে।'